অভাবে স্বভাব নষ্ট

120 44 total views

অভাবে স্বভাব নষ্ট || সীমান্ত সিরাজ

অভাবে স্বভাব নষ্ট বাক্যের অভাবের সাথে স্বভাবের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট। ‘ভাব’ এর পূর্বে ‘অ’ এবং ‘স্ব’ প্রত্যয়যোগে অভাব ও স্বভাব শব্দ দু’টির সৃজন। দু’টি শব্দই কৃৎপ্রত্যয়ভুক্ত। তবে অর্থ ভিন্ন। অভাব হচ্ছে কোন নিষ্টুর অপূর্ণতা অপ্রাপ্তি। আর স্বভাব হচ্ছে ব্যক্তির আচার আচরণ, নৈতিকতা, চালচলন ইত্যাদি।

ব্যক্তি মাত্রই অভাব ও স্বভাবের শিকলে আবদ্ধ। প্রতিটি মানুষই জীবনের কোন না কোন এক সময় অভাবের দাবানলে পতিত হয়। অভাবী ব্যক্তি মাত্রই অভাবের যাতনা সম্পর্কে জ্ঞাত।

অভাব বড় নিষ্টুর শত্রু। ইহা যার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত, তার জীবন বড়ই বন্ধুর। সর্বদা চিন্তার স্রোতে মাথা থাকে ঘূর্ণনরত। বিরতিহীন গতিতে ঘূর্ণনই যেন তার একমাত্র কাজ। অভাবের দহনে জীবন তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। সুচিন্তিত পরিকল্পনা অঙ্কূরেই হয় ভূপাতিত। সুন্দর সোনালী জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভূর মনন সর্বদাই থাকে চিন্তাগ্রস্থ। সকল কাজেই ব্যর্থতার ইঙ্গিত হয়ে উঠে স্পষ্ট। সন্দেহের রোষানলে কার্যমাত্রা শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে স্বকীয় ভূমিতে। শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব হয়ে উঠে না। মাঝপথেই সাঁকো ভেঙ্গে পানিতে হাবুডুবু খায় পরিকল্পিত স্বপ্ন। বাস্তবের ছোঁয়ায় জীবন তখন উপলব্দি করে অভাবের দহন মাত্রা। ঝলসে যায় ব্যক্তির নৈতিকতা। প্রয়োজনের কাছে নৈতিকতা কতদিন থাকে বশে? বিবেকের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে বাস্তবতা। বিবেক উত্তর তৈরিতে ব্যর্থ হয়। চিন্তার দোলাচালে বিলিন হয় তার স্বকীয় সৃজনক্ষমতা।

অভাবী মানুষ কখনো সুস্থ চিন্তা করতে পারে না। কারণ সুস্থ চিন্তার অন্তরায় অভাব আক্রান্ত ব্যক্তির হৃদয়ে সর্বদাই দংশন করে চলে। ফলে স্থির সিদ্ধান্তে কার্য সমাধানে ব্যর্থ হয়। যে কোন কাজের জন্য প্রয়োজন অর্থের কিন্তু অর্থ পাবে কোথায়। এটা ভেবে হয় অস্থির। ফলে বাধ্য হয়েই অভাব মিটাবার বৃথা স্বপ্ন দেখে নৈতিকতাকে করে গলাটিপে হত্যা।

অভাবের তাড়নায় তাড়িত ব্যক্তির আত্মসম্মান তখন ছিকেই উঠে। অভাবের কাছে পরাজিত নৈতিকতা অপমৃত্যুর যন্ত্রনায় দগ্ধ হয়। পীড়িত ব্যক্তির হৃদয় মনন তখন হয়ে উঠে আরও হিংস্ররুপী আত্মঘাতী। যে কোন কাজ করতে বাধ্য সে। সমাজের চোখে হয়ে উঠে সে অসম্মানীত। ঘৃনার পাত্র। এটা কার দোষ?

দু’মুটো অন্নের আশায় স্বীয় জীবন রক্ষায় অসংখ্য নারী আজ নারীর মূল্যবান রত্ন সতীত্ব বিক্রি করে অন্ন সংস্থানের প্রত্যাশায় দেহ ব্যবসার মত ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক কাজে ব্যস্ত। ভেবে দেখার বিষয় নয় কি সমাজের চোখে এদের অবস্থান কোথায়? তাদের অধঃপতনের মূলে কী কারণ? নিশ্চয়ই অভাব। মানুষের নৈতিক চরিত্র অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে অভাব নামক দানবের কারসাজী। তাইতো অভাবে স্বভাব নষ্ট হওয়ার কারণে মানুষ চুরি করে, ডাকাতি করে, ছিনতাই করে।

অভাবী ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব অভাবের চাকায় দলিত মথিত হয়। ‘কথা দিয়ে কথা রাখা’ তার পক্ষে হয়ে পড়ে অসম্ভব। নানামুখী চিন্তার কারণে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রতারক, ঠকবাজ, ইত্যাদি উপাধীতে ভূষিত হওয়াটাও নয় অস্বাভাবিক। ধ্বংশাত্মক নৈতিকতা হননকারী দানবরুপী অভাব দূরীকরণে সমাজ ও রাষ্ট্রের কিছু করণীয় আছে কি?

আপনার অভিমত জানানঃ